বাঞ্ছারামপুরে কমছে জোনায়েদ সাকির মিডিয়া কাভারেজ, কারণ কী?

প্রতিমন্ত্রী ও রাজনৈতিক ছাড়াও জোনায়েদ সাকি একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। শহর-বন্দরে তাকে দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে মিডিয়া। বিগত সরকারের আমলেও তার চেহারা কাটতি বাড়াতো মিডিয়ার। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তা আরো বেগবান হয়ে ওঠে। মিডিয়ার প্রধান শিরোনাম হতেও দেখা গেছে জোনায়েদ সাকিকে। তার বক্তব্য দেশের মানুষকে করে অত্যাধিক প্রভাবিত। যে কোনো ইস্যুতে মুখ খুললেই তা দেশের আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠে।
তবে এবার অনেকটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে তার নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ অর্থাৎ বাঞ্ছারামপুরে। এখানে আসলেও মিডিয়া কাভারেজ খুব একটা হচ্ছে না পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে ঘিরে। তার সামনে দেখা যাচ্ছে না কোনো মিডিয়ার বুম (মাইক্রোফোন)। অনেকটাই অধরাই থেকে যাচ্ছে জোনায়েদ সাকির বক্তব্য। নিজের এলাকাকে ঘিরে কোনো সংবাদের শিরোনামে আসছেন না কোনো আলোচনায়।
ঈদ পরবর্তী সময়ে বাঞ্ছারামপুরে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। করেছেন সাবেক এমপি শাজাহান হাওলাদার সুজনের কবর জিয়ারত। কিন্তু তা কোনো গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়নি।
এছাড়াও শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জোনায়েদ সাকি। রেখেছেন বক্তব্য। সেই বক্তব্য কিংবা আয়োজন ঘিরে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমেও কোনো খবর দেখা যায়নি। জাতীয় গণমাধ্যমেও প্রচার হতে দেখা যায়নি কোনো সংবাদ।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি কয়েকটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন জোনায়েদ সাকি। সেখানে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জোনায়েদ সাকি তাদেরকে তা ভিডিও ধারণ করতে বারণ করেন।
এছাড়াও একটি জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক এ নিয়ে অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জোনায়েদ সাকি কখন আসেন আর কখন যান তা জানানো হয় না অনেক সাংবাদিককে। যার কারণে সংবাদ প্রকাশে তেমন কোনো আগ্রহ থাকে না। এছাড়াও উপজেলার সাংবাদিকদের খুব একটা গুরুত্ব দেন না সাকি, এমন অভিযোগও রয়েছে তার।
উপজেলার এমন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকেরও একই অভিযোগ। দলীয় নেতাকর্মী বা তাদের অনুষ্ঠানসূচির কোনো কিছুই সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না তাদের।
এবার আসি জেলার সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে। তাদের কাছে জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন জানান, দূরত্বের কারণেই অনেক সময় কোনো একক পোগ্রামকে ঘিরে সাধারণত বাঞ্ছারামপুর যাওয়া হয় না তাদের। কিছু সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের থেকে তথ্য নেন তারা। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে না পেলে কোনো অপেশাদার ব্যক্তি থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে তা জাতীয় টিভি কিংবা পত্রিকার প্রচার উপযোগী হয়ে ওঠে না। এটিও একটি কারণ।
তবে অনেকে আবার বলছেন, জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদ মাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব। তারা চেষ্টা করেন তাকে কাভারেজ দেয়ার।



