সামিয়ার স্বামীর ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে পাহাড়িয়াকান্দিবাসী

বাঞ্ছারামপুরের হিজুলিয়াকান্দি গ্রামের সামিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী রোমন মিয়ার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মঙ্গলবার বিকেলে পাহাড়িয়াকান্দিতে ইউনিয়ন প্রবাসী বিএনপি ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে হয় এই বিক্ষোভ।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। রোমন মিয়ার ফাঁসির দাবিতে তাদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা পাহাড়িয়াকান্দি। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে, হাজারো নারী পুরুষ অংশ নেয় এতে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রোমনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এসময় নিহত সামিয়ার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা অভিযোগ করে বলেন, সামিয়াকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত স্বামী ও শাশুড়ি। এই হত্যাকাণ্ডের পর সামিয়ার গলায় রশি পেঁচিয়ে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে তারা আত্মহত্যার নাটক সাজায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে রুমান ও তার মা সামিয়াকে নিয়ে বাঞ্ছারামপুর হাসপাতালে হাজির হন। সেখানে ডিউটিরত চিকিৎসক সামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় নিহতের পরিবার থেকে আত্মহত্যার কথা জানানো হলেও চিকিৎসক মরদেহের অবস্থা দেখে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন বলেন, একটি নিষ্পাপ প্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সামিয়া আক্তারের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সামিয়া আক্তারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদারের দাবি জানান।



