শিক্ষিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের অভাবে ভুগছে বাঞ্ছারামপুর, বিতর্ক পিছু ছাড়ছেই না

শিক্ষিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নেই বললেই চলে বাঞ্ছারামপুরে। এতে সমাজে এক ধরনের বিতর্কিত বিষয় চর্চা হচ্ছে সমাজে। নানা সময় বিতর্ক যে নি পিছু ছাড়ছে না কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর না থাকায় শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কোনো বিষয় সামনে আসছে না। বরং কন্টেন্টে উঠে আসছে এমন কিছু দিক যা সমাজকে ঠেলে দেয় অন্ধকারে। কোনো ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে কন্টেন্ট।
অশালীন ভাষা ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে ভিডিও তৈরি করে আলোচনায় আসার চেষ্টা করছেন এসব কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা। মানহীন এসবে কন্টেন্টে সস্তা বিনোদন হলেও তা শিশুদের মনন গঠনে ক্ষতিকারক বলছেন সচেতন মহল। আশপাশের উপজেলার মতো এখানে কোনো বিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তি কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে এগিয়ে না আসায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
নারীর পোশাক পড়ে ভিডিও তৈরি করে এর আগে সমালোচনার মুখে পড়েন জুতির মা নামে পরিচিত এক ক্রিয়েটর। পরে সচেতন মহলের তোপের মুখে পড়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান তিনি। অশালীন অঙ্গভঙ্গিতে আর কন্টেন্ট তৈরি করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারপর আলোচনায় আসে জাতীর দাদা নামে পরিচিত এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। তিনিও উঠতি বয়সের তরুণীদের নিয়ে বিতর্কিত কন্টেন্ট তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়েন। একাধিক অশ্লীল ভাষায় কন্টেন্ট তৈরি করতে দেখা যায় তাকে। পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে পার পান তিনি।
সম্প্রতি লিজা নামে এক ক্রিয়েটরও অযাচিত আর অশ্লীল শব্দে আলোচনায় আসেন। পারিবারিক মূল্যবোধ নেই এমন শব্দ ব্যবহার করে একের পর কন্টেন্ট বানাতে থাকেন তিনি। কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই পারিবারিক সম্পর্ক জড়িত এমন কিছু তৈরি করেন তিনি। রমজান মাসেও শাশুড়ি আর ছেলের বউয়ের গোসলের একটি ভিডিও তৈরি করে সৃষ্টি করেন বিতর্ক। পরে এ নিয়ে স্টে উইথ রোপান্তির সঙ্গে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। একপর্যায়ে অশালীনতা ছাড়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামের একাধিক তরুণী খোলামেলা ভিডিও প্রকাশ করেন, যা স্পর্শকাতর। এভাবে একের এক বিতর্ক যেন চলছেই।
সম্প্রতি প্রবাসী আলাউদ্দিন নামে এক ক্রিয়েটরকে নিয়েও তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। পরে অবশ্য সমঝোতা হয়।
এসবের পেছনে অশিক্ষাকেই দায়ী করছেন অনেকে। চিন্তার প্রসারতা কম হওয়ার কারণেই অনেক অযাচিত বিষয় নিয়ে মানহীন কন্টেন্ট তৈরি করেন অনেকে। শিক্ষার অভাবকেই দায়ী করছেন অনেকে। শিক্ষিত তরুণরা কন্টেন্টের দিকে এগিয়ে আসছে এ থেকে সমাজ কিছুটা রক্ষা পেতে পারে বলে মত সুশীল সমাজের।
এছাড়াও অনেক ক্রিয়েটরা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। দখল করছেন সাংবাদিকদের আসন। হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। এডিটোরিয়াল পলিসি ও এডিটিং দক্ষতা এবং সাংবাদিকতার ভাষা না জেনে, যাচাই-বাছাইহীন ভাবে সংবাদ করে সমাজে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে দেখা গেছে অনেককে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে তীব্র ক্ষোভ।
একের পর ক্রিয়েটরদের এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে টালমাটাল হয় বাঞ্ছারামপুর। অনেককেই পক্ষে নিতে দেখা যায় অশ্লীল ক্রিয়েটরদের। আবার অনেকে এসব ক্রিয়েটরদের ব্যবহার করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ারও আলামত মিলেছে। এর লাগাম টেনে না ধরলে তা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মত অনেকের।
প্রশাসনিক নীতিমালায় অশালীন ক্রিয়েটরদের আইনের আওতায় আনার দাবি সবার।

