যেখানে রিজিকের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর, সেখানে মানুষের এত দুশ্চিন্তা কেন?

যেখানে রিজিকের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর, সেখানে মানুষের এত দুশ্চিন্তা কেন?
ইসলামিক ডেস্ক, ঢাকা: মানবজীবনের অন্যতম প্রধান এক চিন্তার নাম ‘রিজিক’ বা জীবিকা। আগামী দিনগুলো কীভাবে কাটবে, পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকা যাবে কি না—এই চিন্তায় প্রতিনিয়ত ব্যাকুল থাকেন বহু মানুষ। অথচ পবিত্র কুরআন ও হাদিসের অকাট্য ঘোষণা অনুযায়ী, সৃষ্টির প্রতিটি জীবের রিজিকের দায়িত্ব স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা নিজের হাতে রেখেছেন। এরপরেও মানুষের মনের এই চরম দুশ্চিন্তা কেন—তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন ইসলামিক স্কলাররা।
রিজিক নিয়ে কুরআনের অকাট্য ঘোষণা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে রিজিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সুরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত নয়।” অর্থাৎ, জমিনে যে কীট-পতঙ্গ বা পশু-পাখি রয়েছে, তাদের আহারের সংস্থানও আল্লাহই করেন।
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা এর সমাধান দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” (সুরা আত-তালাক, আয়াত: ৩)।
মানুষের দুশ্চিন্তার মূল কারণসমূহ
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আল্লাহর এই প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতির পরেও মানুষের দুশ্চিন্তার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে:
• অতিরিক্ত লোভ ও প্রতিযোগিতা: মানুষ শুধু বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজনটুকু নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না। সমাজে অন্যের চেয়ে বড় হওয়া, সম্পদ পাহাড় গড়ার মানসিকতা এবং অমূলক প্রতিযোগিতা মানুষকে অস্থির করে তোলে।
• উপায়ের ওপর অতি-নির্ভরতা: অনেক সময় মানুষ তার নিজের মেধা, চাকরি বা ব্যবসাকেই রিজিকের একমাত্র উৎস মনে করে বসে। ফলে বাহ্যিক কোনো উপায়ে সামান্য টান পড়লেই তারা হতাশ হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর ক্ষমতার কথা ভুলে যায়।
• অজানা ভবিষ্যতের ভয়: ‘আগামীকাল কী খাব বা কয়েক বছর পর কী হবে’—এই অমূলক আশঙ্কা মানুষের বর্তমানের মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়।
দুশ্চিন্তা মুক্তির উপায়
ইসলামে রিজিকের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকার কথা বলা হয়নি, বরং সঠিক নিয়মে চেষ্টা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
১. হালাল চেষ্টা অব্যাহত রাখা: ইসলামে অলস বসে থাকাকে পছন্দ করা হয়নি। মানুষকে তার সাধ্যমতো পরিশ্রম করতে হবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।
২. অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা): হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাকে সকল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
৩. শুকরিয়া আদায় করা: বর্তমানে যে নিয়ামত রয়েছে, তার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে রিজিক আরও বৃদ্ধি পায়।
পরিশেষে:
ইসলামিক স্কলারদের মতে, রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা এক প্রকার ঈমানি দুর্বলতার লক্ষণ। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো সাধ্যমতো চেষ্টা করা এবং আল্লাহর দেওয়া ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। এতেই মনের আসল শান্তি ও স্বস্তি নিহিত।