বাঞ্ছারামপুর ফ্রেন্ডস বাইক গ্যালারি কেন্দ্রিক বাইক চোর সিন্ডিকেটের সন্ধান, গ্রেপ্তার একাধিক

সারাদেশে সক্রিয় রয়েছে একটি দুর্ধর্ষ ও সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেট। বিশেষ প্রযুক্তির মাস্টার কি’ বা চাবি ব্যবহার করে মাত্র ২ থেকে ৩ সেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো মোটরসাইকেলের লক ভেঙে উধাও হয়ে যাচ্ছে এই চক্রের সদস্যরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ ও স্থানীয় থানা পুলিশের সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে এই চক্রের এক চাঞ্চল্যকর নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে।
ডেমরা ও মিরপুর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাজধানী ঢাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান চালায় ডিবি। এই অভিযানে এই চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা সজীবসহ মূল ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সজীব (২৮), মো. নিশান আহমেদ (২৫), রুবেল আহমেদ (৩৮) এবং নিত্য সরকার (১৯)। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাস্টার চাবি এবং সুজুকি গিক্সার, ইয়ামাহা আর-১৫, রয়্যাল এনফিল্ড ও হোন্ডা সিবিআরসহ বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল।
তদন্তে জানা গেছে, গত ৭ থেকে ৮ বছরে এই সিন্ডিকেটটি ঢাকাসহ দেশের ৫টি জেলার প্রায় ২০টি পয়েন্ট থেকে ১ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল চুরি করেছে। আর চুরি হওয়া এসব মোটরসাইকেলের সিংহভাগের শেষ গন্তব্য ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এলাকার বিতর্কিত শোরুম ‘ফ্রেন্ডস বাইক গ্যালারি’।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, মূল গডফাদারের অধীনে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ৪টি প্রশিক্ষিত দল বা উপদলে বিভক্ত হয়ে কাজ করত চোরেরা। তারা ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল রাস্তা, গলি এবং পার্কিং এলাকা থেকে চোখের পলকে বাইক চুরি করে সরাসরি বাঞ্ছারামপুরের নিরাপদ আস্তানায় পাঠিয়ে দিত।
রাজধানী থেকে চুরি হওয়া লাখ টাকার দামী দামী ব্র্যান্ডের বাইকগুলো বাঞ্ছারামপুরের ফ্রেন্ডস বাইক গ্যালারিসহ বিভিন্ন রিসিভার পয়েন্টে এনে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে এগুলোকে বৈধ প্রমাণ করতে চক্রটি তৈরি করত ভুয়া নিলামের কাগজপত্র, নকল কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
বাইরে থেকে ঝকঝকে শোরুম মনে হলেও, ফ্রেন্ডস বাইক গ্যালারি মূলত চোরাই বাইক কেনাবেচার একটি বড় ‘হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই ঘটনায় রাজধানী বংশাল থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং বাকি চোরাই মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।



