বাঞ্ছারামপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে যুবদল নেতার তদবির: অডিও ফাঁসের পর তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ

মুখে আওয়ামী লীগের তীব্র বিরোধিতা করলেও গোপনে সখ্যতা ও পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ঈমান আলীর বিরুদ্ধে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহির পক্ষে বিএনপি কর্মীকে ফেসবুক পোস্ট মুছে ফেলতে (ডিলিট) যুবদল নেতার সরাসরি অনুরোধ ও তদবিরের একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুরের এক স্থানীয় বিএনপি কর্মী আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ মহির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে একটি সমালোচনামূলক পোস্ট দেন। এরপরই পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ঈমান আলী ওই বিএনপি কর্মীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বারবার কল দেন। কল রিসিভ না করায় তিনি ৫০ সেকেন্ডের একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান।
ফাঁস হওয়া অডিও বার্তায় যুবদল নেতা ঈমান আলীকে বলতে শোনা যায়—
> “মহি ভাই ফোন দিয়া অনেক রিকোয়েস্ট করেছে, বুঝছেন নি? উনি তো আমাদের এলাকার একজন, আমাদের থানার একজন জাতীয় নেতা। ওই হিসেবে উনার মানহানি করাটা আমাদের থানার জন্য ক্ষতিকর। যদি উনি কোনো অন্যায় করে থাকেন সেটা রাজনৈতিক বা আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে। তবে এভাবে মানহানি করা আমাদের থানার জন্য ভালো না। আমি আপনাকে রিকোয়েস্ট করি, আপনি শুনলে খুশি হব, এটা ডিলিট করে ফেলেন। আমিও কিন্তু আওয়ামী লীগের কট্টর বিরোধিতা করি, এটা জানেন।”
>
একজন চিহ্নিত শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার সম্মান বাঁচাতে যুবদল নেতার এমন দৌড়ঝাঁপ ও সাফাই গাওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বাঞ্ছারামপুরের জাতীয়তাবাদী শক্তির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে যারা হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগের সাথে বেঈমানি করে কিছু সুবিধাভোগী পদধারী নেতা গোপনে আওয়ামী নেতাদের সাথে আঁতাত চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবিলম্বে অডিও কান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ঈমান আলীকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুবদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।



