৩০ মিনিটের ব্যবধানে স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু দেখে পাথর জাকারিয়া, চাইছেন চালকের শাস্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাঞ্ছারামপুরের এক মা ও তার শিশুকন্যা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি গ্রামের তারিন (২৮) ও তার ছোট্ট কন্যাশিশু। তারিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত মীর জাকারিয়া হোসেন নয়ন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার বিচার দাবি করে ও ঘটনা তুলে ধরে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন জাকারিয়া। পোস্টটি পাঠকেদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো
জাকারিয়া নয়নের পোস্ট:
স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাভার্ডভ্যানের ইচ্ছাকৃত ধাক্কা: সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
আমি বর্তমানে গভীর ট্রমার মধ্যে দিন পার করছি। শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হলেও মহান আল্লাহর রহমতে হয়তো বাহ্যিক ক্ষত একদিন সেরে উঠবে, কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি—আমার প্রিয় স্ত্রী ও আদরের সন্তানকে হারানোর ব্যথা কখনোই পূরণ হবে না।
গত ১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্ত্রীর অভিপ্রায়ে দুই বছরের ছোট্ট কন্যা আল ইয়াশাকে নিয়ে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে বিকেলে বাসা থেকে বের হই। বড় দিঘীরপাড় হয়ে ভাটিয়ারীতে যাই। লেকে সময় কাটিয়ে সানসেট পয়েন্টে থেকে নাস্তা সেরে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাম পাশে স্বাভাবিক গতিতে (৩০-৩৫ কিমি) স্কুটার চালাচ্ছিলাম।
ভাটিয়ারী মোড় অতিক্রম করে বিএম ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে, হঠাৎ পিছন থেকে একটি খালি কাভার্ডভ্যান/লরি ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। আমরা রাস্তায় ছিটকে পড়ি। এরপর ঘাতক গাড়িটি আমার স্ত্রী তারিন এবং আমার দুই বছরের শিশু কন্যা আল ইয়াশার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। আমার শরীরের ডান পাশ ও হাতও গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়।
সবচেয়ে নির্মম বিষয়—চালক থামেনি, বরং দ্রুত পালিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর যখন আমি ফিরে তাকাই, দেখি আমার স্ত্রী ও শিশু কন্যা রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে আছে। সেই দৃশ্য কোনো মানুষ সহ্য করতে পারবে না। অসহায় অবস্থায় মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে থাকি। স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রথমে আমার কন্যা আল ইয়াশা, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার স্ত্রী তারিন মৃত্যুবরণ করেন।
মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে আমি হারাই আমার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় দুইজন মানুষকে।
আমার দাবি:….
আমার সহধর্মিণী প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন—
১-ঘটনাস্থল ও আশেপাশের হাইওয়ে এবং বিএমএ এলাকার সকল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হোক।
২-ঘাতক কাভার্ডভ্যান চালককে দ্রুত শনাক্ত করা হোক
৩-আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক
আমার আর্তনাদ:
আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু বিচার চাই।
যেন আর কোনো পরিবারকে আমার মতো এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে না হয়।
যেন বেপরোয়া ও ঘাতক চালকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
আমি রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার চাই।



