ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের লিফটে মাঝেমধ্যেই আটকা পড়ছেন রোগী-স্বজনরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের লিফটে প্রায়ই আটকা পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (১৬ মে) রাতে হাসপাতালের একটি লিফটে হুইলচেয়ারে থাকা বৃদ্ধা রোগী হোসনে আরাসহ পাঁচ থেকে ছয়জন আটকা পড়েন। পরে লিফটম্যান ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হোসনে আরা হাসপাতালের চতুর্থ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি ছিলেন। রাতে তাকে সিটি স্ক্যান করানোর জন্য নিচে নেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেক চেষ্টার পর তাকে বের করা হয়।

জানা যায়, হাসপাতালে দুটি লিফট থাকলেও একটি দিনে ও অন্যটি রাতে চালু রাখা হয়। রাতে চালু থাকা লিফট দিয়েই মূলত দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলার রোগীদের আনা-নেওয়া করা হয়। তবে লোডশেডিং হলেই লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের লিফটে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী তলায় গিয়ে থামে না। এছাড়া জরুরি অ্যালার্ম বা ইন্টারকম ব্যবস্থাও কার্যকর নয়।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, লিফটগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। তখন ঢাকা থেকে প্রকৌশলী এনে মেরামত করতে হয়। এর আগেও হাসপাতালের বহির্বিভাগের একটি লিফট দীর্ঘদিন অচল ছিল।

হাসপাতালের লিফটের ঠিকাদার সেলিম মিয়া জানান, হাসপাতালের লিফটে এখনো জেনারেটর বা আধুনিক ব্যাকআপ ব্যবস্থা নেই। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মাঝপথে লিফট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লিফট কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে হাসপাতালের জন্য দুটি নতুন লিফট স্থাপনের আবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button