এক স্কুল, দুই নাম! বাঞ্ছারামপুরের ভেলানগরে পরিচয় সংকটে শিক্ষার্থীরা

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামে একটি স্কুলকে ঘিরে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। একই স্কুলের প্রধান ফটকে ২ নাম দেখা গেছে। এখন আসল নাম কোনটি তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়রা এ নিয়ে করছেন হাস্যরস। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলের প্রধান ফটকে বড় করে লিখা ভেলানগর দক্ষিণ পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপাশেই আরেকটি আরেকটি ব্যানারে লিখা ভেলানগর নববিকাশ ইসলামিক স্কুল।
রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া একাধিক পথচারীকে স্কুলটির নাম জিজ্ঞেস করলে তারা হাস্যরসাত্মক উত্তর দেন। কেউ বলছেন এটি ইসলামিক স্কুল, আবার কেউ বলছেন এটি কোনো স্কুলই নয় বরং বিভেদের এক দেয়াল। এর আগেও একাধিক বার স্কুলটির নাম পরিবর্তন হয়।
অবশ্য এখনকার দুই নামের কারণে পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তাদের লেখাপড়ায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এভাবে চললে তো আর কেউ স্কুলের প্রতি আস্থা রাখবে না। আজকে একজন, কালকে আরেকজন ভিন্ন নাম দিলে এর চেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কী হতে পারে? এটি কী স্কুল নাকি ক্ষমতার লড়াইয়ের মঞ্চ?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবব বলেন, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন কী করে ইসলামিক স্কুলের ছাত্র হবে? এটি কী কোনো রসিকতা? আস্থা উঠে গেছে।
এরমধ্যে স্কুলটি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এটির দেখা শোনার দায়িত্বে থাকা খবির উদ্দিন। জামায়াতের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিল্লাল হোসেন এটিকে দখল করে নেয় বলে দাবি করেন তিনি। তাকে মারধরের চেষ্টাও করা হয়। এ ঘটনায় বিচারও দাবি করেছেন খবির।
তবে পাল্টা বয়ানে বিল্লাল হোসেন দাবি করেন, স্কুলটি তাদের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। এই স্কুলটি (ভেলানগর দক্ষিণপাড়া নব বিকাশ স্কুল নামে) স্কুলটি ২০০৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। মাঝে করোনার রোগের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। আবার পুনরায় ২০২৫ সালে এই স্কুলটি যাত্রা শুরু করে। এর দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয় খবিরকে। কিন্তু এর আড়ালে তিনি অর্থআত্মসাৎ করে লাভজনক এক প্রকল্পে দাঁড় করা স্কুলটিকে। আয়-ব্যায়ের হিসেব দিতে ব্যর্থ হওয়াতে ১/০৬/২০২৬ তারিখে নোটিশের মাধ্যমে মিস্টার খবির কে স্কুল কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করে।
একটি সূত্রের বরাতে বিল্লাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মিস্টার খবির এক গর্ত ভরাট করার জন্য সরকারি তহবিল থেকে তিন লাখ টাকা এনেছে কিন্তু সে সেই গর্ত বরাট করে নাই এবং জনসাধারণ থেকে অনেক টাকা সংগ্রহ করেছে সে টাকার হিসাব কেহ জানে না।
অপরদিকে ভেলানগর আইডিয়াল স্কুল নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, বিল্লাল,জসুর পুত রূহুল আমীন ও তার পরিবার মিলে আমাদের স্কুল দখল করে নিয়েছে। ভেলানগর ২০০ বছরের ইতিহাসের মধ্যে একটা প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা হয় নাই। এলাকার ছোট ছোট বাচ্চারা ২ কিলোমিটার দূরে যাওয়া আসা অসুবিদা চিন্তা করে আমরা কয়েকজন মিলে বিল্লালের নিকট থেকে ৪ শতক জায়গা নিয়েছিলাম ভাড়া হিসাবে।ও ছিটিং করে আমাদের সাথে ডিট করে দেয় নাই। ওর ভাইদের কাছে বলেছি ওর ভাইয়েরা বলে ও কথা শুনে না আমাদের। তাই আজ বাধ্য হয়ে সমাজের নিকট আমরা বিচার প্রার্থী।
এমন সব পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য ও দ্বন্দ্ব সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না মত প্রকাশ করেন তারা। এসব ঘটনা শিশু শিক্ষার্থীদের মনেও বিরূপ প্রভাব ফেলে শিক্ষার মহত্ব ধ্বংস করবে বলে জানান তারা। সার্বিক মতামতের ভিত্তিতে ভেলানগরকে একটি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।



