বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়া

পাঠাগারের নাম পরিবর্তনে এবার জোনায়েদ সাকির দারস্থ হলো ছাত্রসমাজ

বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহাল এবং পাঠাগারটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে প্রস্তুতকৃত সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও স্মারকলিপি প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির কাছে পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিরা।

 

রোববার প্রতিমন্ত্রীর দফতরে গিয়ে তার হাতে পাঠাগারের এসব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস তুলে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

 

ছাত্রসমাজের প্রত্যাশা খুব শিগগিরই বাঞ্ছারামপুরবাসী একটি সুখবর পাবে। তাদের প্রাণের “বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার” তার যথাযথ মর্যাদা, পরিচয় ও কার্যক্রম নিয়ে আবারও সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

 

৩৭ বছর ধরে অবহেলিত বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারের ইতিহাস ও ঐহিত্য রক্ষায় জনমত উপেক্ষা করে নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে করা হয়েছে মানববন্ধন।
সোমবার ( ২৯ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে হয় ছাত্র-জনতা, সাহিত্যিক, পাঠক ও সচেতন নাগরিকের ব্যানারে হয় এই মানববন্ধন।

এসময় ‘নাম নয় চাই ঐহিত্যের সম্মান’, বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারের মুক্তি চাইসহ নানা প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় মানববন্ধনকারীদের।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারটি’ পুনরায় সেই নামেই চালু করার পরিবর্তে প্রশাসন একক সিদ্ধান্তে এর নাম দিয়েছে “উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার”। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, যে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাস, সেই পাঠাগারের ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন হলো? জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গণপাঠাগার পুনরুদ্ধার করা, নাম পরিবর্তন করা নয়।

বক্তারা ইতিহাসের সূত্র ধরে বলেন, ১৯৮৭ সালে নির্মিত পাঠাগারটি পরবর্তীতে ২০১২ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ অবস্থায় থাকে। পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও স্থানীয় জনগণ নিয়মিতভাবে লাইব্রেরি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা ছাত্রসমাজের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইব্রেরি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। পরে সেটি গত কিছুদিন আগে চালু করা হলেও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই নাম দেয়া ‘উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার। ’

 

পুনঃপ্রতিষ্ঠিত এই গণপাঠাগারের নাম “ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি” অথবা “উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি” রাখার দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা প্রশাসন বরাবর দেয়া হয় স্মারকলিপি।

Related Articles

Back to top button