বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়া

১০ বছর ধরে ডাক্তার সেজে প্রতারণা, বাঞ্ছারামপুরে ভুয়া চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মো. শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সদরের নূরজাহান শপিংমলে অবস্থিত ‘হাজী মুখলেছুর রহমান চক্ষুসেবা কেন্দ্র ও চশমাঘর’-এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে  বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় মো. শহীদুল্লাহ নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ, নিবন্ধন কিংবা বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার শামসুল আলম শিকদারের ছেলে।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। শুধু বাঞ্ছারামপুরই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং কুমিল্লার হোমনাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎এছাড়াও বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও মঙ্গলবারের অভিযানে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

অভিযানকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মিয়া, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান, এসআই লুতফুর রহমান এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”

‎উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Related Articles

Back to top button