বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়া

বাঞ্ছারামপুরে নাতির খতনার অনুষ্ঠান ঘিরে অভিমানে দাদির আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে একমাত্র ছেলের ঘরের নাতির সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছেলের সঙ্গে অভিমানের জেরে ছেতেরা বেগম (৫০) নামে এক নারী কীটনাশক জাতীয় ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন।

‎বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের দুলারামপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছেতেরা বেগম ওই গ্রামের মৃত রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে।

‎পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ছেতেরা বেগমের নাতি বাইজিদের সুন্নতে খতনা সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছেলে সুজনের সঙ্গে তার মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিমান করে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। পরদিন মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরলেও তার অভিমান কাটেনি। মঙ্গলবার রাতেই তিনি চালের পোকা দমনে ব্যবহৃত একটি কীটনাশক জাতীয় ট্যাবলেট সেবন করেন। বুধবার সকালে তাকে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা দ্রুত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্টমাক ওয়াশ করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বাড়িতে আনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

‎নিহতের ছেলে সুজন জানান, তার জন্মের এক মাস পরই বাবা আবু সালামের সঙ্গে মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই তিনি মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাদের একমাত্র ছেলে বাইজিদের সুন্নতে খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার বিষয়টি নিয়ে মা ও মামাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই অভিমান থেকেই তার মা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি বলেন, “মায়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”

‎বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অভিমানের জেরেই ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button