সময়ের বাঞ্ছারামপুরে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর উদ্যোগে আশ্রয় পেলেন বৃদ্ধা মা
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাঞ্ছারামপুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার টিএনটি পাড়ায় দুই ছেলের পাকা ভবন থাকা সত্ত্বেও একটি টিনের ছোট্ট খুপরিতে মানবেতর জীবনযাপন করা এক বৃদ্ধা মায়ের করুণ চিত্র সময়ের বাঞ্ছারামপুরে প্রকাশিত হওয়ার পর পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বৃদ্ধা মায়ের প্রতি এমন অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান। একপর্যায়ে ঘটনাটি পুরো উপজেলায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম কোনো সময় নষ্ট না করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৃদ্ধা মা একটি জরাজীর্ণ চৌকিতে শুয়ে আছেন। চারপাশে বড় বড় ঘাসে ভরা পরিবেশ, বৃষ্টির পানিতে ভেজা বিছানা, শরীরে অসংখ্য মশার কামড়ের দাগ এবং খাবার হিসেবে রয়েছে শুধু শক্ত কাঁঠালের বিচি।
এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি দেখে ইউএনও গভীরভাবে মর্মাহত হন। পরে বৃদ্ধার ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না এবং বৃদ্ধা মায়ের প্রতি এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
পরে ঘটনাস্থলেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের জন্য ছেলেদের ভবনের ভেতরে একটি কক্ষে সম্মানজনকভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে শুকনো খাবার ও নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহির জন্য উপজেলা কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “একজন বাবা কিংবা মা বার্ধক্যে বিলাসবহুল জীবন চান না। তাঁরা শুধু চান সন্তানের ঘরে একটুখানি জায়গা, দুই বেলা দুমুঠো ভাত আর একটু সম্মান। আজ আমরা সন্তান, একদিন আমরাও বৃদ্ধ হব। তাই পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কি সত্যিই সভ্য হচ্ছি, নাকি শুধু আমাদের বাড়িগুলো পাকা হচ্ছে অথচ হৃদয়গুলো পাথরে পরিণত হচ্ছে—এই প্রশ্ন আজ আমাদের সবার সামনে।”
স্থানীয়দের মতে, সময়ের বাঞ্ছারামপুরে সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এত দ্রুত আসত না। সংবাদ প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা এবং জনমতের চাপের কারণেই প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ এবং সময়ের বাঞ্ছারামপুরের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রশংসা করে বলেন, গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই অবহেলিত এই বৃদ্ধা মা অবশেষে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক আশ্রয় ফিরে পেয়েছেন।



