ব্রাহ্মণবাড়িয়া

৯ মাস পর হঠাৎ মামলা: নবীনগরে বিএনপির কোন্দল তুঙ্গে

নবীনগরে বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড: ৯ মাস পর বহিষ্কৃত ৩ নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রায় নয় মাস পর দলটির বহিষ্কৃত তিন শীর্ষ নেতাসহ ১১ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

​এদিকে দীর্ঘ দিন পর দায়ের করা এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযুক্ত নেতাদের অনুসারীরা। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁরা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। অনতিব্লিমে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবীনগরের স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

 

​মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া বাজারে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে দলীয় কার্যালয় ছাড়াও পাশের তিনটি মুদি দোকান ও একটি ওষুধের দোকান ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

​ঘটনার প্রায় নয় মাস পর, গত সোমবার (২ নভেম্বর) নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ মোল্লা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

​মামলায় অভিযুক্ত বহিষ্কৃত তিন বিএনপি নেতা হলেন— নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাইনুদ্দিন মাইনু এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী।

 

​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নিয়ে বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাঁদের বহিস্কার করেছিল।

​মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই স্থানীয় সমবায় মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা করেন অভিযুক্ত নেতাদের অনুসারীরা। উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তারা মামলাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যা দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

​মামলার ১ নম্বর আসামি ও জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী অভিযোগ করে বলেন, “মামলার বাদী বর্তমান সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও হয়রানি করতেই দীর্ঘ নয় মাস পর এই সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। এর নেপথ্যে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার হাত রয়েছে।”

 

 

​এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পেলে তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Back to top button