বাঞ্ছারামপুর

বাহেরচরের কলেজটিতে ছাত্র-ছাত্রীর চেয়ে শিক্ষক বেশি, পাস করলো মাত্র একজন

 

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের ক্যা.এবি তাজুল ইসলাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজে কলমে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছর কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন ছাত্রী । এতে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। এর আগের বছরও ছিলো প্রায় একই চিত্র।

 

 

এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর পর এলাকাবাসী সহ প্রশাসনের নজরে আসে ফলাফলের বিষয়টি।

 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির এমন ফলাফলের তথ্য জানা যায়।

 

 

জানা গেছে, ২০১৬ সালে সাবেক এমপি ক্যা. এবি তাজুল ইসলাম নিজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কলেজটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে শিক্ষক সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।গত বছর ২৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিল ৪জন।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটক ব্যবহারে বেশি সময় ব্যয় করছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

অন্যদিকে, বিভিন্ন অভিযোগে জানা গেছে বর্তমান অধ্যক্ষের খামখেয়ালি,বানিজ্য ও আধিপত্যের কারনে কলেজটি ধ্বংসের মুখে। যে কোনো সময় বন্ধ হতে পারে এর পাঠদানের অনুমতি। কোরবানি ঈদে অধ্যক্ষ জামালের লাখ টাকার গরুর ইজারা বানিজ্য, সহকর্মী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের কারনে কলেজে কেউ আসতে চায় না।অথচ,কলেজের রয়েছে ৩শত ৪৫ শতক ভূমি।৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ৩ তলা ভবন।

 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল জামাল বলেন, এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন পাস করেছে।তার নাম জান্নাতুল মীম, সে জিপিএ ৩ পেয়েছে। আগামী বছর ২০ জন পরীক্ষা দিবে।তিনি বলেন, ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যায়। আর যারা থাকে, তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসত না।

 

 

তিনি

 

 

অকপটে স্বীকার করে বলেন, আমার কলেজটি রীতিমতো আই সি ইউ তে আছে। পাঠদানের অনুমতিপত্র ( EIIN NO139351) বাঁচাতে ও এম.পি.ও ভূক্তির আশায় শিক্ষার্থী অনুরোধ করে এনে পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছে। কাগজে কলমে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা নেই।বলতে গেলে আমি একা যুদ্ধ করছি কলেজটিকে বাঁচিয়ে রাখতে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনার প্রতিমন্ত্রী বরাবর “কলেজ বাঁচানোর আবেদন ” এর একটি দরখাস্ত তিনি প্রতিবেদককে দেখান।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিয়ে বলেন, কলেজটিকে আগে বাচানোটাই আমার চ্যালেন্জ।গরুর বিক্রির ইজারা বানিজ্য নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।”

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ভিপি নাজমুল হুদা বলেন, কলেজের বেহাল দশা পরিকল্পনা মন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে অবহিত করা হয়েছে।আশাকরি, সমাধান আসবে।ভবিষ্যতে রেজাল্ট ভাল হবে।’

 

 

 

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খান বলেন, কলেজের ফলাফল শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করে। কোন কলেজ কেমন ফলাফল করছে, সে বিষয়ে বোর্ড অবগত থাকে। স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে আমরা ফলাফলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। কলেজটির কার্যক্রম চলবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।৫ জনে একজন পাশ এটিকে পাশ বলে না।আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলব। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখবো। ”

 

 

 

 

শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন, অথচ পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন এবং পাস করেছে একজন এমন ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই কলেজটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Related Articles

Back to top button