বাঞ্ছারামপুর

মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি পেরিয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের আলোচনায় ইব্রাহিম সরকার

মেহেদী হাসান মেহের, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 

মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি পেরিয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের আলোচনায় ইব্রাহিম সরকার

 

বাঞ্ছারামপুরে ছাত্ররাজনীতির মাঠে দীর্ঘ পথচলা, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ ঘিরে বাড়ছে আলোচনা

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ছাত্ররাজনীতিতে ইব্রাহিম সরকার একটি পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এই নেতাকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে তাঁর সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি ইব্রাহিম সরকারের। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সেই সময়গুলো ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ। গ্রেপ্তার আতঙ্কে কয়েক বছর নিজ বসতবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে রাত কাটাতে পারেননি তিনি। কখনো ধানক্ষেত, কখনো পাটক্ষেতে রাত কাটিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাহস ও মনোবল জোগানোর চেষ্টা করেছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা জানান।

 

বাঞ্ছারামপুর পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন ইব্রাহিম সরকারের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন।

 

রাজনীতির পথচলায় সুসময় ও দুঃসময়—দুইয়েরই অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রদলও বিভিন্ন সময়ে এসব আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। বাঞ্ছারামপুরের স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতেও আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেছে। সেই ধারায় ইব্রাহিম সরকারের রাজনৈতিক পথচলাও আলোচনায় উঠে আসছে।

 

বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদকে ঘিরে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় অতীতের সাংগঠনিক দায়িত্ব, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাঁকে নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মত রয়েছে।

 

তবে নেতৃত্বের প্রশ্নে কেবল অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই নয়, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, দলীয় কর্মসূচিতে ধারাবাহিক অংশগ্রহণ এবং সংগঠনকে গতিশীল করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও দলীয় বিবেচনার ওপর।

 

ইব্রাহিম সরকারের রাজনৈতিক পথচলা তাই শুধু একটি পদে দায়িত্ব পালনের ইতিহাস নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার এক দীর্ঘ অধ্যায়।

 

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে তাঁর ভূমিকা কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক অবস্থান।

Related Articles

Back to top button