রাতের আঁধারে চট্টগ্রামের বন্যকবলিত মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিলো বাঞ্ছারামপুরের ছেলেরা

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত সাতকানিয়া উপজেলার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঞ্ছারামপুর ভলান্টিয়ার পরিবার।মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সংগঠনটির সদস্যরা দুর্গম এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।সংগঠন সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পরপরই তারা জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি, শুভাকাঙ্ক্ষী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, মুড়ি, চিড়া, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শিশুখাদ্যসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহ করে সাতকানিয়ার দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।স্বেচ্ছাসেবকরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকা অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়ায় তাদের প্রয়োজন বিবেচনায় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।সংগঠনের সদস্যরা জানান, ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়ও তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের বন্যায়ও তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সহযোগিতা করা।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মানবিক অভিযানে অংশ নেওয়া প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবক নিজ নিজ যাতায়াত, থাকা ও খাবারের ব্যয় ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের দেওয়া অনুদানের শতভাগ অর্থ সরাসরি বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও পুনর্বাসন সহায়তা ক্রয় এবং বিতরণে ব্যয় করা হচ্ছে। এ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাতাদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়িয়েছে।ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি পশ্চিম ডেমশা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ছরুয়ার কামালের সমন্বয় ও স্থানীয় সহযোগিতার ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে সফলভাবে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।এ উদ্যোগে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, উপদেষ্টামণ্ডলী, সমাজসেবক, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। তারা চান, কোনো অসহায় পরিবার যেন অভুক্ত না থাকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দূরবর্তী জেলা থেকে এসে নিঃস্বার্থভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।



