সরাইলে ৩ বছরের সাজা এড়াতে ১২ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার

মাত্র ৩ বছরের জেল খাটার ভয়ে একটানা ১২টি বছর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন ১২ বছর পার হয়ে গেছে, পুলিশ হয়তো ভুলেই গেছে! কিন্তু সরাইল থানার পুলিশ যে এত সহজে কিছু ভোলে না, তা সম্ভবত স্বপ্নেও ভাবেননি সরাইলের মুর্শেদ খাদেম। অবশেষে ১২ বছরের দীর্ঘ পলায়ন পর্বের অবসান ঘটিয়ে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি এখন সোজা শ্রীঘরে!
ঘটনার সূত্রপাত: ইটের বদলে মানবাট গায়েব!
গল্পের শুরু ২০১২ সালে। হরলাল দেবনাথ নামে এক কপালপোড়া ব্যক্তি ইট কেনার আশায় সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন মুর্শেদ সাহেবের হাতে। ভেবেছিলেন লাল ইটে নতুন ঘর তুলবেন। কিন্তু টাকা হাতে পেতেই মুর্শেদ খাদেম ইট দেওয়া তো দূরের কথা, যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন!
ইট না পেয়ে আর সময় নষ্ট না করে ২০১৩ সালে হরলাল বাবু সোজা আদালতে গিয়ে মামলা ঠুকে দিলেন। আদালতও ২০১৪ সালে রায় জানিয়ে দিল— “বাছা মুর্শেদ, ইট ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে ৩ বছর মেহমান হয়ে জেলখানায় বসে ভাত খাও!”
এক যুগের মহানিষ্ক্রমণ!
আদালতের ৩ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের খবর শুনেই মুর্শেদ খাদেম ভাবলেন, “৩ বছর জেলে থাকার চেয়ে ১২ বছর গায়েব থাকা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর!” ব্যস, শুরু হলো তাঁর দীর্ঘ এক যুগের পলাতক জীবন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন সময়ের সাথে সাথে পুরনো স্মৃতি মুছে যায়, হরলাল বাবু ও পুলিশ সবাই তাকে ভুলেই গেছে।
তাই একটু বিশ্রাম নিতে বুধবার রাতে নিজ গ্রাম শাহাজাদাপুরের কোনাপাড়ায় নিজের খাটে একটু গা এলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সরাইল থানার পুলিশের কাছে যে গোপন খবর ছিল, তা তিনি টেরও পাননি!
পুলিশের অসামান্য চমক!
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে হঠাৎ সরাইল থানার পুলিশ হাজির মুর্শেদের ঘরের দরজায়। ১২ বছরের জমানো কৌশল আর ৩ বছরের সাজা এড়ানোর সব চেষ্টা এক নিমেষেই ভেস্তে গেল।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুরুল কাদের ভূইয়া জানান— “আইন আর সরাইল থানার পুলিশ যে কত ধৈর্যশীল, সেটা উনি ১২ বছর পর হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। আদালতের ৩ বছরের সাজার পরোয়ানা হাতে নিয়ে এতদিন পর তাকে বৃহস্পতিবার শ্রীঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”



