ব্রাহ্মণবাড়িয়াশিক্ষাসরাইল

সরাইলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত, ব্যবস্থা নিতে মাউশির নির্দেশ

সরাইল প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সাদীর বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মসহ সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও শুনানিতে প্রমাণিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

‎গত ২৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক-২ শাখার শিক্ষা কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

‎চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্ত করার এখতিয়ার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিদ্যালয় পরিচালনা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মার্কেটের দোকান বরাদ্দে অনিয়ম, দীর্ঘদিনের ভোগদখলকারী ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একাডেমিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শেখ সাদীর দাখিল করা কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাঁর এমপিও (সরকারি বেতন-ভাতা) স্থগিত (স্টপ পেমেন্ট) করা হয়। পরে কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতেও প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর এমপিও পুনরায় চালুর সুযোগ নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়।

‎মাউশির চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এমপিও স্থগিত থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে সরকারি বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ প্রধান শিক্ষককে প্রদান করাও বিধিসম্মত হয়নি।

‎নির্দেশনার অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

‎এদিকে অভিযোগকারীরা বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দ্রুত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা কমিটির বিরুদ্ধেও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শেখ সাদী বলেন, “এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে যা কিছু হয়েছে, সবই ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। অভিযোগের বিষয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বর্তমানে হজে আছেন। তিনি দেশে ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী বক্তব্য জানাব।”

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সরাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার বলেন, “আমরা গতকাল মাউশির চিঠি পেয়েছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বর্তমানে হজে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Related Articles

Back to top button