ফেরিঘাট যেন মরণফাঁদ, ২০ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধারে জানা গেল নিহত ব্যক্তির পরিচয়

দিন দিন বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার ফেরিঘাট যেন হয়ে উঠেছে মরণ ফাঁদ। গত কয়েক বছরে একাধিক দুর্ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। বৃহস্পতিবারও ঘটে গেল
এক মর্মান্তিক ঘটনা। এ দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পন্টুন থেকে পড়ে নিখোঁজ হন ৬২ বছর বয়সী মিয়াজ উদ্দিন । দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা পর শুক্রবার তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ জানান, ঘাটে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও নেই, যা যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।
প্রথমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা যায় নিহত ব্যক্তি নরসিংদী সদর উপজেলার ভৌকাদি গ্রামের বাসিন্দা। সন্ধ্যার দিকে তিনি পড়ে গেলে প্রথমে সেখানে থাকা লোকজনের চোখে পড়লে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। তবে মুহূর্তেই আবার তলিয়ে যান। পরে তৎপরতা চালিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজের পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। দীর্ঘ অভিযানের পর শুক্রবার বিকেলে মেঘনা নদী থেকে মিয়াজ উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা ও নৌ পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন ফেরি দিয়ে যাতায়ত করা মানুষজন। তাদের দাবি দ্রুতই আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরের। এর আগে বছর খানেক আগে একটি সিএনজি ফেরি থেকে পানিতে পরে দুজন নিহত হন।
কড়িকান্দি ফেরিঘাট দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও কুমিল্লার প্রায় ১২ উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, যাত্রী ছাউনি দখল করে দোকান স্থাপন, অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যার প্রতিকার চাইছেন তারা।



