স্পেশাল সাংবাদিক’ পরিচয়ে আশুলিয়ায় আটক বাঞ্ছারামপুরের সাবেক এমপি প্রার্থী সফিক

সাভারের আশুলিয়ায় ‘স্পেশাল সাংবাদিক ৬৪ জেলা’ নামক এক অদ্ভুত ও বিভ্রান্তিকর পরিচয় দিয়ে বেড়ানো এসকে সফিক (সফিকুল ইসলাম শুভ) নামের এক কথিত ভুয়া সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। গত ৩১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত এসকে সফিক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় নিজেকে দেশের সকল জেলার প্রতিনিধিত্বকারী বা বিশেষ ক্ষমতাধর এক ‘স্পেশাল সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তার এই রহস্যময় ও ভুয়া পদবি ব্যবহারে স্থানীয় মূলধারার সংবাদকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে তার বিভিন্ন সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।
অনুসন্ধানে তার পেছনের পরিচয় সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আটক এসকে সফিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। সাংবাদিকতার আড়ালে তার সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি ২০২৬ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের ভিপি নুরের দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ মার্কা নিয়ে উক্ত আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সাভার-আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী চক্র অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলের ভুয়া কার্ড ঝুলিয়ে অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও ভুয়া কার্ড ব্যবহারকারী সফিকের মতো কথিত সাংবাদিকদের আটকে সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে অপসাংবাদিকতা, জালিয়াতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের এই ধরণের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।



