বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়া

সাভারে এক নারীর মামলায় গ্রেফতার হন এসকে শফিক, জামিন পেয়ে আবারও হুংকার ‎

বাঞ্ছারামপুরের আলোচিত এক নাম এসকে শফিক। তিনি কখনো সাংবাদিক আবার কখনো এমপি প্রার্থী আবার কখনো বা ব্যবসায়ী। পদ-পদবি আর তকমার যেন শেষ নেই। শীসা খাওয়ার জন্য টাকার বান্ডিল দেখিয়ে বান্ডিল শফিক নামেও পরিচিত হয়েছেন। অদ্ভূত সব কর্মকান্ডে সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ে না তার। এবার সাভারের আশুলিয়ায় ঘটিয়ে বসলেন আরেক কান্ড। সাংবাদিক পরিচয়ে এক নারীর বাসায় গিয়ে করেন তল্লাশি। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে দেন পুলিশের হাতে। পরে সেই নারীর করা এক মামলায় তাকে পাঠানো হয় আদালতে।


‎১ আগস্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।


‎তবে লাইভে এসে শফিক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গ্রেফতার হননি বলে জানান। এ সময় হুংকার দিয়ে অনেক সাংবাদিককে হুমকিও দেন। তাকে কেউ আটকাতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।


‎বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে আশুলিয়া থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, তাকে একটি মামলায় কোর্টে পাঠানো হয়েছিল। থানা থেকে তাকে ছাড়া হয়নি। আদালত থেকে জামিন পেয়ে থাকতে পারেন।



‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত এসকে সফিক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় নিজেকে দেশের সকল জেলার প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাধর এক ‘স্পেশাল সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এতে সংবাদকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে তার বিভিন্ন সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।

‎অনুসন্ধানে তার পেছনের পরিচয় সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আটক এসকে সফিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৬ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের ভিপি নুরের দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

‎স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সাভার-আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী চক্র অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলের ভুয়া কার্ড ঝুলিয়ে অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে অনেকে। এরমধ্যে শফিকও জড়িত রয়েছেন বলে দাবি তাদের।

‎শিল্পাঞ্চলে অপসাংবাদিকতা, জালিয়াতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের এই ধরণের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় পুলিশ।

Related Articles

Back to top button