সরলতার সুযোগে নারীর টিপসই নিয়ে জমি হাতিয়ে নিলেন সাংবাদিক সাজু, থানায় অভিযোগ

সাংবাদিকতার পরিচয়ে দীর্ঘ দিন থেকেই বহু নারীর সঙ্গে অপকর্ম ও নানা প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছিল শাহীন সাজুর বিরুদ্ধে! এবার জমি খারিজ করার নামে ফরদাবাদের এক নারীর টিপসই নিয়ে সেই জমি হাতিয়ে নিয়ে নিজেই এর মালিকানা দাবি করছেন সাংবাদিক শাহীন সাজু! এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিল্পী আক্তার বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ! শাহীন সাজুকে ভূমিদস্যু, প্রতারক, চিটার হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান ওই নারী!
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিল্পী আক্তারকে তার স্বামী ২ শতক জমি হেবা বিষয়ক ঘোষণায় রেজিস্ট্রি করে দেয়। এসময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কোনো ঝামেলা ছাড়াই জমি খারিজ করে দেয়ার আশ্বাস দেয় সাজু! পরে বাঞ্ছারামপুর নিয়ে শিল্পীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে টিপসই ও স্বাক্ষর নেয় শাহীন সাজু! এরপর নিজের নামে তা খারিজের আবেদন করে জমির মালিকানা দাবি করতে থাকে প্রতারক এই সাংবাদিক!
নিজের জমি ফিরে পেতে অসহায় শিল্পী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন উপজেলার এক প্রাপ্ত থেকে আরেক প্রান্তে! সহায় সম্বলহীন এই পরিবারটির এটুকু জমি ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই বলে জানা যায়!
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এমন একাধিক অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিরুদ্ধে! ফতেহপুরে নিশি রাতে এক তরুণীর বাসায় যাতায়াত করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে! কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি আবার কখনো ভুল পাল্টে এনসিপি পরিচয়ের আড়ালে এমন সব অপকর্ম করেন তিনি। ডাক প্রতিদিন নামে একটি পত্রিকায় একাধিক ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে নিজেকে সাংবাদিকও বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও পুলিশের সঙ্গেও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহীন সাজুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে কোনো ধরণের লেনদেন বা জমি সংক্রান্ত কোনো কিছুতে না জড়াতে আহ্বান জানানো হয় তার সাথে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি গুরুতর অপরাধ। জালিয়াতির মামলা হওয়ার যোগ্য। ভুক্তভোগী যদি মামলা করেন আমরা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিবো।



