বাঞ্ছারামপুরে স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যার নাটক সাজাল মাদকাসক্ত স্বামী ও শাশুড়ী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার পাহাড়িয়ার কান্দি ইউনিয়নের হিজুলিয়া কান্দি গ্রামে সামিয়া (১৯) নামের এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
মাদকাসক্ত স্বামী রুমান (২১) এবং তার আপন মা মিলে এই হত্যাকাণ্ডের পর সামিয়ার গলায় রশি পেঁচিয়ে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আনুমানিক গত মধ্যরাতে রুমান ও তার মা মিলে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সকালের দিকে খুনি রুমান সামিয়ার পরিবারকে ফোন করে জানায় যে, তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে রুমান ও তার মা সামিয়াকে নিয়ে বাঞ্ছারামপুর হাসপাতালে হাজির হন। সেখানে ডিউটিরত চিকিৎসক সামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় নিহতের পরিবার থেকে আত্মহত্যার কথা জানানো হলে চিকিৎসক মরদেহের অবস্থা দেখে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
চিকিৎসকের এই কথা শোনার পরপরই খুনি রুমান হাসপাতাল থেকে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়। তবে রুমান পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী মা পালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
বর্তমানে ঘাতক রুমান পলাতক রয়েছে। সামিয়ার পরিবার খুনি রুমান এবং তার সহযোগী মায়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানিয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরিবারের সদস্যরা বলেন, থানায় দায়িত্বরত সিনিয়র অফিসাররা সামিয়াকে নিজেদের সন্তান মনে করে এবং জুনিয়র অফিসাররা নিজেদের বোন মনে করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের ফাঁসির ব্যবস্থা করবেন।
একইসঙ্গে, পলাতক খুনি রুমানকে কেউ কোথাও দেখলে বা তার অবস্থান জানলে নিকটস্থ থানায় দ্রুত জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। হিজুলিয়া কান্দিতে শ্বশুরবাড়িতে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



