বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়া

স্বপন চেয়ারম্যানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, কোরআনে আগুন লাগলেও পুড়েনি হরফ

রাতের আঁধারে আগুনের লেলিহান শিখায় দুর্বৃত্তরা পুড়িয়ে দিলো দরিকান্দির স্বপন চেয়ারম্যানের স্বপ্ন। ঘরের সব আসবাবপত্র আর বাপ দাদার বসতভিটার সব স্মৃতি এখন পুড়ে ছাই। বাদ যায়নি পবিত্র কোরআন শরীফ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার  খাল্লা গ্রামের মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বসত বাড়িটি এভাবেই পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

এমন ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে পুরো উপজেলা জুড়ে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এমন নেক্কার জনক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের। সকালে আগুনে পোড়া ঘরটি দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন এলাকার মানুষ। তাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন বলছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত  করে দোষীদের আনা হবে আইনেরও আওতায়।

জানা গেছে, মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বাবা মরহুম জীবন মিয়াও দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সূত্রে তাদের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের পৈতৃক বাড়ির এই ঘরটিও ছিল পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। স্বপনও টানা তিনবার এই দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এই ঘরটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

‎এবিষয়ে দরিকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল হক দানিস বলেন, “স্বপন চেয়ারম্যানের এই ঘরটি ছিল একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য। এখান থেকেই ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। এমন নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

এবিষয়ে মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, “এটি আমার বাবার আমলের অনেক দামি কাঠের তৈরি প্রাচীন ঘর। এই ঘর আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইউনিয়নের মানুষের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। কিন্তু প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ঘরটি পুড়িয়ে দেওয়া হবে—এটা ভাবতেও পারছি না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, পুলিশ তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে এটাই আমার প্রত্যাশা।”

‎

Related Articles

Back to top button