রাজনীতি

ছাত্রলীগের দাবি কলিজায় ধরেছে কাঁপন, ছাত্রদল বলছে ‘একসাথে আসো দেখি’

ছাত্রলীগের দাবি কলিজায় ধরেছে কাঁপন, ছাত্রদল বলছে ‘একসাথে আসো দেখি’

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে ছাত্রলীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এ নিয়ে পুরো দেশ এখন তোলপাড়। প্রকাশ্যে দিবালোকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এমন মিছিল জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। প্রশাসনের গাফিলতি হিসেবে দেখছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ বলছে এই এক মিছিলেই কলিজায় কাঁপন ধরে গেছে ছাত্রদলের। তার বিপরীতে ছাত্রদল বলছে ‘ রিলস বানানোর জন্য এই মিছিল, একসাথে সবাই আসো দেখি।

 

ফেসবুকে একের পর এক পাল্টাপাল্টি পোস্টে এখন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ পেইজ থেকে একের পর এক পোস্ট, তার নিচে মন্তব্য করতে দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলকে। উভয়পক্ষ একে অপরকে নিয়ে করছেন বিষেদাগার। তাদের সমর্থকদের মধ্যেও এ নিয়ে চলছে বাগবিতণ্ডা।

 

ছাত্রলীগের একটি পোস্টে বলা হচ্ছে, ছাত্রদল নেতা সমীর চক্রবর্তী কিছুদিন আগেও পালিয়েছিল, অন্যদিকে ছাত্রদল থেকে দাবি করা হচ্ছে ছাত্রলীগ নেতা ‘টোকাই লিমনসহ’ সবাইকে গ্রেফতারের।

 

কার কপালে ভবিষ্যতে কী থাকছে এ নিয়ে চলছে পাল্টা-পাল্টি হুমকি। এরইমধ্যে থানা ঘেরাও করেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, পুলিশ না ধরলে ভবিষ্যতে ছাত্রলীগ নেতাদের ঘর থেকে ধরে আনা হবে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, প্রতিবাদে ছাত্রদলের থানা ঘেরাও

 

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

‎মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে জেলা শহরের পূর্ব মেড্ডায় কোকিল টেক্সটাইল এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে সমাজসেবা অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিমন আল স্বাধীনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আকস্মিক এ মিছিলটি বের করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিছিলটি শেষ করে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।

‎এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিনসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ঘেরাও করেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

‎এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, কয়েকটা টোকাই ও মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ একটি চোরাগোপ্তা মিছিল করে পালিয়েছে। আমরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সারা শহর তল্লাশি করেও ছাত্রলীগের কাউকে খুঁজে পাইনি। প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা এই তৎপরতা চালানোর সুযোগ পেয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাই।

‎এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আগে থেকে আমাদের জানা ছিল না। কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও এ বিষয়ে অবগত করেনি। মিছিলের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ কাজ শুরু করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অভিযান চালানো হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button