বাঞ্ছারামপুরে সরকারি চাল নিয়ে ‘চালবাজি’, প্রতি বস্তায় কম ৫ কেজি

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত ১০ কেজি চালের পরিবর্তে কাউকে ৮ কেজি আবার কাউকে থেকে ৯ কেজি করে দেয়ার অনিয়ম পাওয়া গেছে।
রোববার (২৪ মে) উপজেলা চত্ত্বরে চাল বিতরণের সময় এসব অনিয়ম সামনে আনে উপজেলার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে এ নিয়ে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য।
এ সংক্রান্ত একটি ফুটেজও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী চাল বিতরণ কালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কয়েকজনের পাওয়া চাল ওজন করে দেখেন। সেখানে দশ কেজির পরিবর্তে কোনোটায় আট কেজি আবার কোনোটায় ৯ কেজি চাল দেখা গেছে।
এ নিয়ে উপস্থিত বিতরণকর্মীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বিতরণকর্মীরা জানান, তারা কম দিচ্ছেন না, বরং খাদ্য গুদাম থেকে আনা বস্তাতেই চাল কম। পরে তা মেপে দেখা হয়। সেখানেও দেখা যায় প্রতিবস্তায় ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে কোনোটায় ২৯ কেজি, কোনোটায় ২৮ কেজি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বস্তা মেপে দেখেন। এ সময় যেখানে প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি চাউল থাকার কথা, সেখানে অনেক বস্তায় মাত্র ২৫ কেজি চাউল পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার মানিকুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, চালে যে কম ছিল, আপনি আমাকে আগে জানাননি কেন? জানালে আমি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করতে পারতাম।
এই বক্তব্যের পর পুরো ঘটনায় নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদি আগে থেকেই চাল কম থাকার বিষয়টি জানা থাকে, তাহলে কেন তা গোপন রাখা হলো? গরিব মানুষের প্রাপ্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে এমন অনিয়মের দায় কার—খাদ্য গুদাম অফিসের, নাকি পৌরসভার দায়িত্বশীলদের? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গরিবের হক মেরে যারা নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় অনিয়ম হবে। অসহায় মানুষের মুখের খাবার নিয়ে কারসাজি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।



