বাঞ্ছারামপুরে শ্রমিক সংকট চরমে, রাতেও চলছে হারভেস্টারে ধান কাটা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, টানা বৃষ্টি ও হারভেস্টার মেশিনের সংকট মিলিয়ে বেড়েছে ধান কাটার খরচ। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে দেখা যাচ্ছে।
রোববার (১৭ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কানি জমির ধান কাটতে এখন হারভেস্টারে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর একই জমি কাটতে খরচ হয়েছিল প্রায় অর্ধেক। অসময়ে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অনেক জমির ধান হেলে পড়ায় কাটতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগছে।
কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বেড়ে গেছে। পাশাপাশি জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অনেক কৃষক জানান, শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে খড় অক্ষত থাকে এবং ধানের অপচয় কম হয়। কিন্তু হারভেস্টারে কিছু ধান নষ্ট হচ্ছে।
উজানচর গ্রামের কৃষক ছালে মুছা বলেন, শ্রমিক না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি খরচে ধান কাটাতে হচ্ছে। হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ধান কাটার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে বুধাইরকান্দি গ্রামের রহমান মিয়া বলেন, ধানের বাজারদর ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক চাষি লাভ করতে পারছেন না।
হারভেস্টার মালিকদের ভাষ্য, সরকারি ভর্তুকিতে কেনা অনেক মেশিন পুরোনো হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই বিকল হচ্ছে। যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। এছাড়া মাঠে পানি থাকায় অতিরিক্ত শ্রমিক রাখতে হচ্ছে, ফলে ব্যয়ও বেড়েছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলায় মোট ৬৮টি হারভেস্টার মেশিন থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ৪২টি। এর মধ্যে কয়েকটি পার্শ্ববর্তী উপজেলায় কাজ করছে। দ্রুত সেগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৯ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



