পকেটে টাকা না থাকলেও খাওয়াচ্ছে রেস্টুরেন্টটি, বাঞ্ছারামপুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
আশরাফুল ইসলাম মারুফ ও রায়হান:

টাকা না থাকলেও মিলছে খাবার, মানবিকতায় প্রশংসিত ব্রাহ্মনবাড়িয়া, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার, ছয়ফুল্লাকান্দির ‘তিন কন্যা রেস্টুরেন্ট’
তিন কন্যা রেস্টুরেন্ট-এ দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের। পকেটে টাকা না থাকলেও ক্ষুধার্ত মানুষ যেন না ফেরেন খালি পেটে— এমন বার্তা দিয়েই পথচারী ও মুসাফিরদের খাবার খাওয়াচ্ছেন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
রেস্টুরেন্ট এর একটি ব্যানার স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, “পেটে ক্ষিধে কিন্তু পকেটে নেই টাকা, চিন্তা ছাড়াই ম্যানেজারকে বলে খেয়ে নিন।” মানবিক এই বার্তাই এখন প্রশংসায় ভাসাচ্ছে রেস্টুরেন্টটির মালিককে।
জানা যায়, আমিরুল ইসলাম পরিচালিত রেস্টুরেন্টটি ছয়ফুল্লাকান্দি বাজার মাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসাফির, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষ খাবার খেয়ে থাকেন। টাকা দিতে না পারলেও কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন অন্তত ২০ জনকে খাওয়াচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি খুলনা থেকে আসা এক অসহায় মুসাফিরকে এই রেস্টুরেন্টে বিনামূল্যে খাবার খেতে দেখা যায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি সেখানে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে ওই মুসাফির বলেন, “পকেটে টাকা না থাকলেও সম্মানের সঙ্গে খাবার খেতে পেরে সত্যিই অনেক ভালো লাগছে।”
রেস্টুরেন্টটিতে পোলাও, তেহারি, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু মানবিক দিক থেকেই নয়, খাবারের মান ও পরিবেশনেও সুনাম অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, বর্তমান সময়ে যখন অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুধুই লাভ-লোকসানের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত, তখন এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারী ও গরিব মানুষদের জন্য এটি অনেকটা আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
রেস্টুরেন্ট মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, “মানুষের উপকার করতে পারাটাই বড় বিষয়। কেউ ক্ষুধার্ত থাকলে সামর্থ্য অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি। এতে মানসিক শান্তি পাই।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে আরও ছড়িয়ে পড়ুক। কারণ মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতাই পারে সমাজকে আরও সুন্দর ও মানবিক করে তুলতে।



