যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের মামলায় কিশোরও আসামি

১৫ জনের যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, মামলায় ১৫০ আসামি; যুবদল নেতার কিশোর ছেলেকেও তালিকায় দেখে সরাইলে তোলপাড়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় যুবদল নেতার ১৭ বছর বয়সী ছেলেসহ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ও নিরীহ ব্যক্তির নাম উঠে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। একই সঙ্গে উঠেছে ‘মামলা বাণিজ্যের’ অভিযোগও।
জানা গেছে, গত রোববার (১৭ মে) ভোরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তিতাস সেতুর পূর্ব পাশে যুবলীগ নেতা শেখ মুন্নার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিছিলের প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় উপজেলা ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সরাইল সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা সরাইল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে যুবলীগ নেতা শেখ মুন্না ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
ওই রাতেই সরাইল থানার এসআই বখতিয়ার বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার আসামির তালিকায় উঠে আসে সরাইল উপজেলা যুবদল নেতা মো. রফিকুল ইসলামের ১৭ বছর বয়সী ছেলে আলভির নাম। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আমার শিশুপুত্রকে আসামি করে জীবনের শুরুতেই কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
একইভাবে উপজেলা কৃষক দল নেতা তাজুল ইসলামের দুই ছেলে—আকাশ মিয়া (২৬) ও আরাফাত রহমান (১৮)—এর নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন আকাশ ঢাকার সাভারে একটি চীনা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের তীব্র নিন্দা জানাই। তবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা ঠিক হবে না। তদন্ত করে নির্দোষদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।”
এদিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা লেখেন, “ভুয়া মামলা দিচ্ছেন, বাণিজ্য করছেন, করতে থাকেন। পরিণতির জন্যও প্রস্তুত থাকবেন।”
পরে ঢাকায় এক সভায় তিনি বলেন, “যেখানে ১৫-২০ জনের একটি মিছিল হয়েছে, সেখানে দেড় শতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। এখানে মামলা বাণিজ্যের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখানে নতুন। স্থানীয় নেতাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী আসামি করা হয়েছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।”
মামলাকে কেন্দ্র করে সরাইলজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।



