শুধু একটি ফেসবুক পোস্ট, তারপর যা হলো ছাত্রদল নেতার পরিবারের সঙ্গে…

মাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট করেছিলেন দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমাতুল্লাহ। কয়েক ঘণ্টা না যেতেই নেমে আসে ভয়াবহ হামলা। সংঘবদ্ধ হামলায় টেটাবিদ্ধ হন রহমাতুল্লাহ। ছাড় পায়নি তার পরিবারও। বাবাকে পিটিয়ে আহত করা হয়, বড় ভাইকেও মারধর করা হয় নির্মমভাবে। ভাঙচুর চালানো হয় বাড়ির একাধিক ঘরে।
বুধবার (০৬ মে) রাত ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাখরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদকবিরোধী একটি পোস্ট দেন রহমাতুল্লাহ। পোস্টে কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও বিষয়টি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফরহাদ, আলমগীর ও কাদিরসহ কয়েকজন রহমাতুল্লাহর পথরোধ করে মারধর করে। এসময় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ৯টার দিকে ২০-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রহমাতুল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে টেটা নিক্ষেপ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় তার বাবা মতিউর রহমান ও বড় ভাই রুহুল আমিনকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলার সময় বাড়ির অন্তত ৯টি ঘরে ভাঙচুর এবং একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত রহমাতুল্লাহ বলেন, “মাদকের কারণে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি শুধু সচেতনতার জন্য পোস্ট করেছিলাম। কারও নাম উল্লেখ করিনি। তারপরও তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আলমগীর, ফরহাদ ও জাহাঙ্গীর নামে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



