উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি সাতবিলার তারু মিয়া, ১২০ পার হলেও ছুটে যান কবর খুঁড়তে

বয়সের ভারে শরীর ন্যুব্জ হলেও মানবসেবার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এখনো অটুট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের প্রবীণ কৃষক তারু মিয়ার। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘তারু মিয়া’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রায় ১২০ বছর বয়সেও এলাকায় কারো মৃত্যুর সংবাদ পেলেই কোদাল হাতে কবর খননের কাজে ছুটে যান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৮০ থেকে ৮৫ বছর ধরে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কবর খনন করে আসছেন তারু মিয়া। এ পর্যন্ত সাতবিলা গ্রামসহ ছলিমাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার মানুষের কবর খুঁড়েছেন তিনি। অথচ এই কাজের জন্য কখনোই কারও কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।
তারু মিয়া জানান, মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। তাই ৩০-৩৫ বছর বয়স থেকেই তিনি এই মানবিক কাজকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, মানুষের উপকার করতে পারলেই শান্তি পাই। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। তবে বয়সের কারণে এখন আগের মতো শারীরিক শক্তি নেই।
জীবিকার বিষয়ে তিনি জানান, নিজের প্রায় ৭ কানি জমিতে কৃষিকাজ করেই দীর্ঘদিন সংসার চালিয়েছেন। বর্তমানে তার একমাত্র ছেলে সালাম মিয়াও কৃষিকাজ করেন। স্ত্রী ও এক ছেলে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে ছেলে, পুত্রবধূ, মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা তার দেখাশোনা করেন।
তার ছেলে সালাম মিয়া বলেন, আব্বা নিজের কাজ নিজেই করেন। বয়স্ক ভাতাও নিতে চান না। নিয়মিত জীবনযাপন ও পরিমিত খাবারের কারণেই ১২০ বছর বয়সেও তার কোনো জটিল অসুখ-বিসুখ নেই।
প্রতিবেশী মোহাম্মদ মহসিন মিয়া বলেন, “তারু চাচা খুবই সহজ-সরল ও হাসিখুশি মানুষ। ছোটবেলা থেকেই মানুষের কবর খনন করছেন। এটি তার মহৎ গুণের পরিচয়।
ছলিমাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তারু চাচাকে কবর খননের মতো মানবিক কাজে নিয়োজিত দেখতে পাচ্ছি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “কবর খনন একটি মহৎ ও মানবিক কাজ। সবাই এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করতে চান, তারাই এমন কাজ করে থাকেন।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করেও মানুষের শেষ বিদায়ের দায়িত্ব পালন করে চলা তারু মিয়া মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিঃস্বার্থ সেবা, বিনয়ী জীবনযাপন এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার তাকে স্থানীয়দের কাছে শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।



